একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি চীনা বাজারের জন্য উপযোগী করে ‘গ্রক’ নামে এআই চিপের একটি সংস্করণও তৈরি করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, অনুমোদনের বিষয়টি এনভিডিয়ার জন্য একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এক সময় কোম্পানির মোট রাজস্বের ১৩ শতাংশ আসত চীন থেকে। এইচ২০০ চিপ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা অচলাবস্থা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একটি অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। চীনা কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে চিপটির ব্যাপক চাহিদা ছিল এবং মার্কিন সরকারও রফতানির অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু মূলত বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে আমদানির বিষয়ে দ্বিধাই ছিল এ চালানের প্রধান বাধা।
এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেনসেন হুয়াং জানিয়েছেন, চীনে তাদের বিশাল গ্রাহকের জন্য এইচ২০০ চিপের লাইসেন্স মিলেছে এবং তারা এরই মধ্যে বেশকিছু কোম্পানির কাছ থেকে ক্রয়াদেশ পেয়েছেন। ফলে এনভিডিয়া পুনরায় এ চিপের উৎপাদন শুরু করতে পারছে।
হুয়াং এক সংবাদ সম্মেলনে অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমাদের সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরায় চাঙ্গা হয়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার জটিলতার কারণে গত বছর এইচ২০০ চিপের উৎপাদন স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছিল এনভিডিয়া। প্রতিষ্ঠানটি উভয় দেশের কাছ থেকে লাইসেন্স পাওয়ার জন্য দীর্ঘ কয়েক মাস অপেক্ষা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের এক নথিতে গত ফেব্রুয়ারিতে এনভিডিয়া উল্লেখ করেছিল, যুক্তরাষ্ট্র সরকার নির্দিষ্ট কিছু চীনা গ্রাহককে স্বল্প পরিমাণে এইচ২০০ পণ্য সরবরাহের লাইসেন্স দিয়েছে। বর্তমানে বেইজিং থেকেও চূড়ান্ত অনুমোদন মেলায় চীনের বাজারে এনভিডিয়ার প্রবেশ সহজ হলো।
রয়টার্সের গত জানুয়ারির প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের তিনটি বৃহৎ প্রযুক্তি কোম্পানি বাইটড্যান্স, টেনসেন্ট এবং আলিবাবাসহ এআই স্টার্টআপ ডিপসিককে এ চিপ আমদানির প্রাথমিক অনুমতি দিয়েছিল বেইজিং। তবে সে সময় শর্তাবলি চূড়ান্ত করার কাজ চলছিল। বর্তমানে এনভিডিয়া গ্রাহকদের জানিয়েছে তারা এখন থেকে ক্রয়াদেশ দিতে পারবে।
এদিকে সিইও জেনসেন হুয়াংয়ের ইতিবাচক মন্তব্যের প্রভাবে চীনের বাজারে এআই সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরে বড় উত্থান দেখা গেছে। বিশেষ করে এনভিডিয়ার এআই এজেন্ট ‘ওপেনক্ল’ চীনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ায় গতকাল দেশটির এআই খাতের শেয়ারদর রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। হুয়াং ওপেনক্লকে"পরবর্তী চ্যাটজিপিটি হিসেবে অভিহিত করার পর লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল স্টার্টআপ মিনিম্যাক্স এবং ঝিপু এআইয়ের শেয়ারদর ১৯ শতাংশের বেশি বেড়েছে।